Search Here

Most Recent

১১ আগস্ট, ২০২১

Tribal Rebellion | আদিবাসী বিদ্রোহ | Modern Indian History

Tribal Rebellion | Modern Indian History

www.gkghor.in
Modern Indian History | Tribal Revolution | Indian History Question Answer | Tribal Movement


  উপজাতি বা আদিবাসী বিদ্রোহঃ

ভারতের কৃষক সংগ্রামের ইতিহাসে আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘকাল অবহেলিত ছিল। সম্প্রতি ঐতিহাসিকদের মধ্যে ও আদিবাসী বিদ্রোহ সম্পর্কে যথেষ্ট আগ্রহের সঞ্চার করেছে। আদিবাসী সমাজে ক্ষোভ ও অসন্তোষ এর মূল কারণ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রসারের ফলে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ও ব্যবস্থার ভাঙ্গন। ইংরেজরা এ দেশে আসার পর থেকে আদিবাসী সমাজের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। জমিদারি শোষণ ও মহাজনী অত্যাচার শুধু আদিবাসী কৃষকদের সহ্য করতে হয়নি, সমস্ত সম্প্রদায়ের কৃষকদের এর শিকার হতে হয়েছিল। জমিদারি ও মহাজনী শোষণ ছাড়া উপজাতি কৃষকদের আরো একটি বিষয়ে গভীর ক্ষোভ ছিল, তা হলো তাদের অরণ্যের অধিকার এর উপর ইংরেজদের হস্তক্ষেপ। উপজাতি সমাজ ও অর্থনীতিতে অরণ্য সম্পদ এর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু সরকার অরণ্য সংরক্ষণের অজুহাতে উপজাতিদের অরণ্য থেকে অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এবং ঝুম প্রথায় তাদের চাষাবাদ নিষিদ্ধ করে দেয়।


 সাঁওতাল বিদ্রোহ (Santhal Rebellion) :

ছোটনাগপুরের মুন্ডা ও সাঁওতাল পরগনার উপজাতিদের মধ্যে আমরা শুধু জমিদার, মহাজন, ব্যবসায়ী বিরোধী আন্দোলন এই প্রত্যক্ষ করি না, তাদের কাছে এইসব আন্দোলন ছিল উপজাতির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব অক্ষুন্ন রাখার সংগ্রাম। 1855-56 সালের সিধু কানুর রক্তাক্ত আন্দোলন সাঁওতাল কৃষকদের মূল সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ক্রমাগত কর বৃদ্ধি ও মহাজনী শোষণ এবং তাদের অরণ্য অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ সমগ্র উনিশ শতকে ক্রমাগত এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। মাঝে মাঝেই এই  অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বিক্ষিপ্ত বিদ্রোহের সূচনা কত। ইংরেজ সরকার অবশ্য তাদের খুশি করবার জন্য এবং তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ গুলি দূর করার জন্য কিছুটা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু ইংরেজ সরকার তাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং তাদের মৌলিক সমস্যা গুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। সাঁওতাল উপজাতিরা কিছুতেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছিল না। এইসব কারণে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।


খারওয়ার আন্দোলনঃ

1870 এর দশকে খারওয়ার আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন ভগিরথ মাঝি নামে একজন ব্যক্তি। সাঁওতাল সম্প্রদায় অতীতে খাওয়ার নামেই পরিচিত ছিল। এই কথাটির প্রয়োগ ছিল সাঁওতালদের অতীত গৌরব ও সুবর্ণময় দিনগুলির প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। খারওয়ার আন্দোলন ছিল একাধারে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়। ভগিরথ মাঝি সাঁওতালদের কর বয়কট করার জন্য নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে নিজেদের শুদ্ধ রাখার জন্য শুকর ও মুরগি হত্যা থেকে বিরত থাকার জন্য সাওতালদের তিনি আদেশ দেন।


খাওয়ার আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য আমাদের দৃষ্টি গোচর  করে। প্রথমত, এই আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল সাঁওতালদের সোনালী অতীতের দিনগুলো ফিরিয়ে আনা। অর্থাৎ উপজাতিক ব্যবস্থা রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করা। অথবা বলা যায় এই আন্দোলন ছিল পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন। দ্বিতীয়ত, যদিও এই আন্দোলনের নেতারা তাদের দুঃখ-দুর্দশার জন্য দিকুদের দায়ী করেছিল এবং সাঁওতালি সমাজের শুদ্ধিকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল। তবু ধর্মীয় চিন্তা ক্ষেত্রে তারা হিন্দু ধর্ম ও অন্যান্য ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ধর্মের দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিল।


সবশেষে এই কথা বলা যায় যে খায়াওয়ার আন্দোলন অনেকাংশেই হিন্দু ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং এই আন্দোলন সাঁওতালদের সংহতি কিছুটা দুর্বল করলেও কখনই তারা তাদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যবোধ হারায় নি। বরং এই আন্দোলন আরও দীর্ঘ হয়েছে।


 মুন্ডা বিদ্রোহ (Munda Rebellion) :

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মত ছোটনাগপুরের মুন্ডারা ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছে। উনিশ শতক জুড়ে তারা দেখছিল কিভাবে তাদের উপজাতীয় সংগঠন ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন পুষ্ট বহিরাগতদের দ্বারা অত্যাচারে ক্রমশ ভেঙ্গে পড়েছিল। ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় মহিলাদের চিরাচরিত খুন্তকটিদার ভূমি ব্যবস্থার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। উত্তরের সমভূমি থেকে আগত ব্যবসায়ী মহাজন শ্রেণী ক্রমশ জাগীরদার ও ঠিকাদার মুন্ডাদের দ্বারা তৈরি করা জমি গ্রাস করতে থাকে। আইন-আদালত-এর অভিযোগেও কোনো প্রতিকার হতো না, কেন কিনা সরকারি প্রশাসন ছিল শোষকশ্রেণীর পক্ষে। জমিদারি শোষণ, অতিরিক্ত খাজনার বোঝা, বেট বেগার বা বিনা মজুরিতে জোরজবরদস্তি বেকার পরিশ্রম এবং সর্বোপরি জমিজমা হারানোর যন্ত্রণা তাদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। 1820 ও 1831 খ্রিস্টাব্দে তারা সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাদের জমি উদ্ধারের জন্য। কিন্তু বিদ্রোহের পরেও তারা তাদের জমি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।


 মোপলা বিদ্রোহ (Moplah Rebellion) :

 উনিশ শতকে ও বিংশ শতকে ভারতে যে সব কৃষক বিদ্রোহ হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মোপলা বিদ্রোহ। দক্ষিণ মালাবারের এরনাদ ও ওয়াল্লুভানাদ তালুকের মুসলিম কৃষকেরা মোপলা নামে পরিচিত। এই মোপলা কৃষকরা বারবার বিদ্রোহ করলেও সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য বিদ্রোহ ঘটেছিল 1921 সালে। আদিবাসী বিদ্রোহের মোপলা বিদ্রোহ গুলি কিন্তু সফল হতে পারেনি।


মোপলা বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল জমিদারের শোষণ ও অত্যাচার। ইংরেজরা যখন এই অঞ্চল দখল করে তখন তারা হিন্দু জমিদারদের প্রভূত ক্ষমতা প্রদান করে। জমির উপর কৃষকরা তাদের চিরাচরিত অধিকার ও সত্ত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। জমিদারেরা তাদের যখন-তখন জমি থেকে উৎখাত করতে থাকে।1830 এর দশকে জমিদারদের অত্যাচারের মাত্রা প্রচুর পরিমাণে বাড়তে থাকে। জমিদারদের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে মোপলা মুসলিম কৃষকেরা আন্দোলন শুরু করে। মোপলা বিদ্রোহীরা জমিদারদের সম্পত্তি ধ্বংস করে ও মন্দির ভাঙচুর করে তাদের প্রতিবাদ জানাতে থাকে। পুলিশের গুলির মুখোমুখি হয়ে তারা নিজেদের আত্মত্যাগ করে। মোপলা শহিদদের অধিকাংশই দরিদ্র কৃষক। ভূমিহীন কৃষক শ্রমিক হলেও সম্পন্ন কৃষক, এমনকি ছোটখাট ব্যবসাদার ও তাদের সমর্থন করত।

 এই আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা সবাই দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষক ছিল না। এই আন্দোলনের কারণ যাই হোক না কেন হিন্দু কৃষকেরা জমিদারদের শোষণ ও অত্যাচারের শিকার হলেও তারা আন্দোলনে শামিল না হওয়ায় মোপলা বিদ্রোহের চরিত্র কিছুটা হলেও খন্ড হয়েছিল। মোপলারা এক সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল, আর তাদের এই স্বপ্নকে সফল করতে তারা ধর্মের আশ্রয় নিয়েছিল।


বারংবার বিদ্রোহ করলেও মোপলাদের সংগ্রাম কিন্তু অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব, সংগঠন, কর্মপদ্ধতি কোন কিছুই যথেষ্ট জোরালো ছিল না। ধর্মের উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ার ফলে এই আন্দোলন কিছুটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাছাড়া ইংরেজ সরকার মোপলা বিদ্রোহকে ধর্মীয় উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করতেন।


👉 Peasant Rebellion

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন